সর্বশেষ আলোচনা

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

***মেধা নেই এমন অজুহাতে কোন কাজ থেকে পালাবেন না, লেগে থাকুন, সফলতা আসবেই।***

সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি (Promotion in government Service)


পুলিশ পদোন্নতি; পুলিশ পদোন্নতি ২০২৪; পুলিশ পদোন্নতি ২০২৩; ডিএমপি পুলিশের পদোন্নতি; প্রশাসনে পদোন্নতি; পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বদলী আদেশ ২০২৪; পুলিশ পদোন্নতি ২০২৪ আবেদন; পুলিশ পদোন্নতি ২০২৩ রেজাল্ট; নন ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০২১; মাউশি নিয়োগ বিধিমালা ২০২১; পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৩; কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ২০২১; জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা pdf; পদোন্নতি বিধিমালা ২০১১; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদোন্নতি বিধিমালা; ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর নিয়োগ বিধিমালা ২০২১; নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কর্মচারী (জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি) বিধিমালা ২০১১; নিয়োগ জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০১৪; পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৪; জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি বিধিমালা pdf; পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৩; জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিধিমালা ২০২৩; জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদোন্নতি বিধিমালা; পদোন্নতি বিধিমালা ২০২১;


সরকারি চাকরিতে পদোন্নতি
(Promotion in government Service)

পদোন্নতি(Promotion)


পদোন্নতি(Promotion) বলতে চাকরিতে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে উচ্চতর পদে এবং উচ্চতর বেতন স্কেলে নিয়মিতভাবে পদায়নকে বুঝায়। পদোন্নতি একই চাকরির ভেতর অথবা এক চাকরি হতে অন্য চাকরিতে হতে পারে। যেমন নন-ক্যাডার কর্মচারীকে ক্যাডার সার্ভিসে পদোন্নতি। চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে পদোন্নতির অর্থ পদবি, গ্রেড বা উভয়ের উন্নতি। পদোন্নতি দ্বারা সর্বদাই উচ্চতর পদে, গ্রেডে বা মর্যাদায় আসীন হওয়াকে বুঝায়।


সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা-৭ তে পদোন্নতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে—-


‘(১) কোনো স্থায়ী সরকারি কর্মচারীকে সততা, মেধা, দক্ষতা, জ্যেষ্ঠতা, প্রশিক্ষণ ও সন্তোষজনক চাকরি বিবেচনাক্রমে পদোন্নতি প্রদান করিতে হইবে।


(২) এই আইন ও আপাতত বলবৎ কোন আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে পদোন্নতি প্রদান সম্পর্কিত বিষয় ও শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।’



উচ্চতর পদে পদোন্নতির অর্থ কর্মচারীকে নিয়মিতভাবে উচ্চতর পদে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রদান। পদোন্নতি ও উচ্চতর পদের ভারপ্রাপ্ত হিসাবে নিয়োগ এক নয়। নিম্ন পদধারীকে উচ্চতর পদের দায়িত্ব পালনের জন্য পদোন্নতি ব্যতিরেকে ভারপ্রাপ্ত হিসাবে নিয়োগ করা অর্থাৎ উচ্চতর পদের চলতি দায়িত্ব প্রদান পদোন্নতি হিসাবে গণ্য নয়। চলতি দায়িত্বের ক্ষেত্রে উচ্চতর পদের বেতন প্রাপ্য নয়, কেবল দায়িত্ব ভাতা প্রাপ্য।



পদোন্নতি পদ্ধতির উদ্দেশ্য


পদোন্নতি পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক মনোবল বজায় রাখার স্বার্থে উচচতর পদে সম্ভাব্য অধিকতর যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন। পদোন্নতির দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষা করতে হয় কোন ব্যক্তি বা কোন শ্রেণীর স্বার্থ নয়। সকল যোগ্য প্রার্থীর যুক্তিসংগত সুযোগ পাওয়া, পদ শূন্য হওয়ার সংগে সংগে মেধা অনুসারে উচ্চতর পদে পদোন্নতি লাভ করা এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে অধিকতর মেধা সম্পন্ন প্রার্থী বাছাইয়ের দ্বারা জনস্বার্থ রক্ষা হয়।


পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণ


গণ কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীনে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার সংসদের এবং সংসদের আইনের অবর্তমানে বা আইন প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত অনুচ্ছেদের শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বিধি দ্বারা পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির। বেসরকারী কর্মচারীদের পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নিয়োগকর্তার বা নিয়োগকর্তা কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের। পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত উপাদানসমূহকে সাধারণভাবে বিবেচনা করতে হয়—


(ক) জ্যেষ্ঠতা;


(খ) উপযুক্ততা:


(গ) সততা:


(ঘ) কৃত চাকরির অতীত ইতিহাস তথা রেকর্ড।


চাকরিতে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে উপরোক্ত উপাদানসমূহের মধ্যে কোনটির গুরুত্বই কম নয়। জ্যেষ্ঠতা উক্ত উপাদানসমূহের মধ্যে কেবল একটি উপাদান।


সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত আইন দ্বারা অথবা উক্ত অনুচ্ছেদের শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধি দ্বারা পদোন্নতি পরিচালিত। উক্তরূপ আইন বা বিধির অবর্তমানে পদোন্নতির জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা যায়(Sant Ram Shama v. State of Rajsthan, AIR 1967 SC 1910)। কিন্তু আইন বা বিধি বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রে আইন বা বিধি পরিপন্থি বা উক্ত আইন বা বিধিকে অতিক্রম করে বা সংশোধন করে কোন প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করা যাবে না। আইন বা বিধির অবর্তমানে সরকার পদোন্নতির মানদন্ড নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে এই মানদন্ড একইরূপ হতে হবে। অর্থাৎ এক কর্মচারীর জন্য একরূপ মানদন্ড এবং অপর কর্মচারীর জন্য অন্যরূপ মানদন্ড নির্ধারণ করা যাবে না।


পদোন্নতির যোগ্যতা নির্ধারণের অনুসরণীয় নীতিসমূহ


জ্যেষ্ঠতা পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হইলেও পদোন্নতি সংক্রান্ত নিধিবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নীতিসমূহ অনুসরণ করা হয়—


(ক) জ্যেষ্ঠতা নীতি: নিম্নতর শ্রেণীর পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতাই পদোন্নতির একমাত্র মানদন্ড। যথা- চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণীর(১৬-২০তম গ্রেড) পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার এই নীতি অনুসরণ করা হয়। এই নীতি উপযুক্ততার শর্ত সাপেক্ষে প্রযোজ্য হয়।


(খ) জ্যেষ্ঠতা তথা মেধার নীতি: মধ্যম শ্রেণীর পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা তথা মেধার নীতি অনুসরণ করা হয়। দ্বিতীয় শ্রেণীর(১০ম-১২তম গ্রেড) পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করা হয়। এই নীতি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার সংগে মেধারও মূল্যায়ন করতে হয়। এইক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে বিবেচনা করা হলেও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।


(গ) মেধা তথা জ্যেষ্ঠতার নীতি: প্রথম শ্রেণীর(৯ম গ্রেড) পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করা হয়। সাধারণতঃ প্রথম শ্রেণীর প্রারম্ভিক পদ ও মধ্যম পর্যায়ের পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে মেধাকে প্রাধান্য প্রদান পূর্বক জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়। 


(ঘ) মেধা নীতি: সর্বোচ্চ পদসমূহে পদোন্নতির ক্ষেত্রে এই নীতি অনুসরণ করা হয়। এইক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা বিবেচ্য নয়, মেধা বিবেচ্য। তবে সর্বোচ্চ পদসমূহের সকল পদে এই নীতি প্রযোজ্য নয়। উচ্চতর পদসমূহের মধ্যে সাধারণ পদসমূহের ক্ষেত্রে মেধা তথা জ্যেষ্ঠতার নীতি প্রযোজ্য। কিন্তু উচ্চতর পদসমূহের মধ্যে অতিগুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত কতিপয় পদ যেখানে মেধার কোন বিকল্প নাই, উক্ত পদসমূহের ক্ষেত্রে এই নীতি প্রযোজ্য।



পদোন্নতি কি অধিকার


পদোন্নতি অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না। পদোন্নতির প্যানেলভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও অধিকার হিসাবে পদোন্নতি দাবী করা যায় না(Calcutta Metropolitan Development Authority v. Ujjal Kumar, 1982 Lab IC 1155)


মেধার ভিত্তিতে উচ্চতর পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোন কর্মচারী জ্যেষ্ঠতার কারণে কনিষ্ঠের পদোন্নতির তারিখ হতে অধিকার হিসাবে পদোন্নতি দাবী করতে পারেন না। এইক্ষেত্রে চাকরি সন্তোষজনক হলেই যথেষ্ট নয়। কোন কর্মচারী অধিষ্ঠিত পদে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করলেও উচ্চতর পদের জন্য যোগ্য নাও হতে পারেন। তবে বাছাই প্রক্রিয়া পক্ষপাতিত্বমূলক হলে কনিষ্ঠের পদোন্নতির তারিখ হতে পদোন্নতির দাবী রাখে[(1987) 4 SCC 486: AIR 1987 SC 1889]


তাছাড়া জ্যেষ্ঠতা তথা মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কেবল জ্যেষ্ঠতার কারণেই পদোন্নতি অধিকার হিসাবে দাবী করা যায় না(State of Mysore v. Syed Mahamood, AIR 1968 SC 1113)


জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে পদোন্নতির অনুপযুক্ততার ক্ষেত্র ব্যতীত জ্যেষ্ঠ কর্মচারীকে অতিক্রমন পূর্বক কনিষ্ঠ কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হইলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কনিষ্ঠ কর্মকর্তার পদোন্নতির তারিখ হইতে অধিকার হিসাবে পদোন্নতি দাবী করতে পারে।


পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ ও কর্ম কমিশনের পরামর্শ


সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিমালার বিধান অনুসরণসপূর্বক পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। পদোন্নতি প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিমালায় বর্ণিত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং ফিডার পদের ন্যূনতম চাকরিকাল পূর্ণ হতে হবে। বাংলাদেশ কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর প্রবিধি-৮ এর বিধান মতে একই শ্রেণীর চাকরিতে বা একই ক্যাডারের ভিতরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্ম কমিশনের পরামর্শের প্রয়োজন হবে না। এইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করতে হবে।



সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিমালার বিধান অনুসরণে পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত শূন্য পদ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। একই শ্রেণীর চাকরিতে বা একই ক্যাডারের ভিতরে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্ম কমিশনের পরামর্শের প্রয়োজন হয় না(Public Service Commission (Consultations) Regulations, 1979, r-8)।' তাছাড়া ৪র্থ শ্রেণী হতে ৩য় শ্রেণীর পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্ম কমিশনের পরামর্শের প্রয়োজন হয় না। এই সকল ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করতে হয়।


শ্রেণী পরিবর্তনপূর্বক পদোন্নতি অর্থাৎ ৩য় শ্রেণী হতে ২য় শ্রেণীতে এবং ৩য় বা ২য় শ্রেণী হতে ১ম শ্রেণীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কর্ম কমিশনের পরামর্শ প্রয়োজন হয়। এইক্ষেত্রে কোন কমিটির সুপারিশ কমিশনের জন্য বাধ্যকর নয়। নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ, কমিশনের সুপারিশ প্রাপ্তির পর পদোন্নতির আদেশ জারি করবে।


পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা(সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা)


বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা, ২০১৭ এ বলা হয়েছে যে,

(১) চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ এর জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেড এ ৩৫৫০০-৬৭০১০/- টাকার স্কেলে পদোন্নতির জন্য কমিশন সার্ভিসের সদস্যদের পরীক্ষা গ্রহণ করবে, এবং উক্ত পরীক্ষা একই পঞ্জিকা বৎসরে দুইবার অনুষ্ঠিত হবে:


তবে শর্ত থাকে যে, দুই পরীক্ষার মধ্যে অন্যূন ৫ (পাঁচ) মাসের ব্যবধান থাকবে এবং সাধারণভাবে উক্ত পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি ও আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে।


(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন পরীক্ষা সকল প্রশাসনিক বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে:


তবে শর্ত থাকে যে, কমিশনের মতে কোন প্রশাসনিক বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা পর্যাপ্ত না হলে কমিশন উক্ত প্রশাসনিক বিভাগের পরীক্ষা অন্য যে কোন প্রশাসনিক বিভাগে গ্রহণ করতে পারবে।


এখানে বলে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাগণের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ পরীক্ষাটি প্রতি পঞ্জিকা বছরে দুইবার অনুষ্ঠিত হয়। দুই পরীক্ষার মধ্যে অন্যূন ০৫ মাসের ব্যবধান থাকে এবং সাধারণভাবে পরীক্ষাসমূহ ফেব্রুয়ারি ও আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রতি পঞ্জিকা বছরে অনুষ্ঠিত দুইটি পরীক্ষাতেই একজন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করতে পারেন। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণের স্বীয় পদে চাকরি স্থায়ী হলেও চাকরির মেয়াদ ০৪ বছর পূর্ণ হলে এবং যাদের চাকরির মেয়াদ ক্যাডার পদে ১৪ বছর পূর্ণ হয় নি তাঁরাই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পদোন্নতির জন্য পরীক্ষা) বিধিমালার শর্ত সাপেক্ষে সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। সিনিয়র স্কেল পদোন্নতি পরীক্ষার


জন্য মোট ৩০০ নম্বরের নিম্নোক্ত ৩টি বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়:

ক. প্রথম পত্র: বাংলাদেশ ও চলতি বিষয়াবলি;

খ. দ্বিতীয় পত্র: সকল সরকারি অফিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও পদ্ধতি;

গ. তৃতীয় পত্র : ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের নিজস্ব কার্যাবলির সংগে সম্পর্কিত বিষয়াবলি।


প্রতিটি পত্রের পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ নম্বর এবং পরীক্ষার সময়সীমা ০৩ (তিন) ঘণ্টা। প্রতিটি বিষয়ের পাশ নম্বর ৫০%। ০১ জন প্রার্থী একসাথে একটি/দুইটি/তিনটি পত্রের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন।


পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রদান


বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের আওতাভুক্ত প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ প্রদান কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই কমিশন তৃতীয় শ্রেণি হতে দ্বিতীয় (১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেড) ও প্রথম শ্রেণির [৯ম গ্রেড। পদে পদোন্নতি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির [১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেড) গেজেটেড পদ থেকে প্রথম শ্রেণির [৯ম গ্রেড) গেজেটেড পদে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগের সুপারিশ প্রদান করে থাকে। পদোন্নতির সুপারিশ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগবিধি, ফিডার পদের চাকরিকাল, গ্রেডেশন তালিকা, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান, বাৎসরিক গোপনীয় প্রতিবেদন, বিভাগীয় মামলা সম্পর্কিত প্রত্যয়নপত্র এবং পদবিন্যাস ছক ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে কর্ম কমিশন কর্তৃক পদোন্নতির সুপারিশ প্রদান করা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/ অধিদপ্তর/পরিদপ্তরের প্রথম শ্রেণি [৯ম গ্রেড] ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেড) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব বিবেচনার জন্য বর্তমানে কর্ম কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত নিম্নোক্ত চেকলিস্ট অনুসরণ করা হচ্ছে।


মন্ত্রণালয়/বিভাগ, অধিদপ্তর/পরিদপ্তরের প্রথম শ্রেণি [৯ম গ্রেড) ও দ্বিতীয় শ্রেণির [১০ম, ১১তম, ১২তম ও ১৩তম গ্রেড) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব বিবেচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের চেকলিস্ট



মন্ত্রণালয়/বিভাগের নাম                                                                                                       অধিদপ্তর/পরিদপ্তরের নাম


ক. পদোন্নতি সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যাবলি


১. পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত পদের নাম ও বেতনস্কেল:

২. পদোন্নতির যোগ্য শূন্য পদের সংখ্যা:

৩. পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত পদ সংখ্যা:

৪.ফিডার পদ/পদসমূহের নাম ও বেতনস্কেল:

৫. ফিডার পদধারীদের মধ্যে প্রস্তাবিত প্রার্থী সংখ্যা:




নিয়োগ বিধির বিধান অনুসরণ


১. নিয়োগ বিধি ব্যতীত কোন পদে নিয়োগ/পদোন্নতি প্রদানের সুযোগ নেই। তাছাড়া একই বেতন স্কেলে পদোন্নতি প্রদানের সুযোগ নেই।


২. নিয়োগ বিধিতে ফিডার পদ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নেই– এমন কোন পদ হতে পদোন্নতি প্রদান করা যাবে না।


৩. পদোন্নতি সর্বদাই নিয়োগবিধির বিধান অনুসারে ফিডার পদধারীদের মধ্য হতে দিতে হয়। ফিডার পদধারী না হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতি প্রদান নিয়োগ বিধির লঙ্ঘন।


৪. সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, স্থায়ীকরণ, পদোন্নতি প্রদান সরকারের বিদ্যমান বিধি বিধান ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এর ব্যতয় ঘটিয়ে প্রদানকৃত পদোন্নতি বিধি বহির্ভূত।


৫. নিয়োগ বিধিমালায়/প্রবিধানমালায় বিধান না থাকলে পদোন্নতির কোটায় পূরণযোগ্য পদ সরাসরি নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে পূরণ করা যাবে না।


৬. ভিন্ন ভিন্ন নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগকৃতদের পদোন্নতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধির বিধান অনুযায়ী বিবেচনা করতে হবে।



সন্তোষজনক চাকরি


সন্তোষজনক চাকরি পদোন্নতি প্রদানের একটি অন্তর্নিহিত শর্ত। চাকরি সন্তোষজনক না রলে পদোন্নতি প্রদান করা যায় না। পদোন্নতি প্রদানের প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণসহ সন্তোষজনক চাকরির ভিত্তিতে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। সাধারণত নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে চাকরি সন্তোষজনক হিসেবে গণ্য করা যায় না—


(১) বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে(এসিআর) বিরূপ মন্তব্য থাকলে এবং উক্ত বিরূপ মন্তব্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিমোচন না করলে;

(২) বিভাগীয় বা ফৌজদারী মামলা চলমান থাকলে;

(৩) বিভাগীয় মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হলে এবং দন্ডকাল বহাল থাকলে;

(৫) ফৌজদারী মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত হলে।


পদোন্নতির কর্তৃপক্ষ


সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধিতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ব্যতীত অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ না করার ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই পদোন্নতি প্রদানের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার অধঃস্তন কোন কর্তৃপক্ষকে পদোন্নতি প্রদানের ক্ষমতা অর্পন করতে পারেন।


সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিধি অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা হওয়ার ক্ষেত্রে পদোন্নতি প্রদানের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।


পদোন্নতির জন্য বিবেচনার অধিকার


S. Wali Shah v. Accountant General, 1982 Kash LJ 98 মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে, ‘প্রত্যেকেরই  পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।’ কোন কর্মচারী পদোন্নতি অধিকার হিসেবে দাবী করতে পারে না, কারণ আইনে এইরকম কোন অধিকার প্রদান করা হয়নি। তবে পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়ার অধিকার প্রত্যেক কর্মচারীর রয়েছে। পদোন্নতির যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও পদোন্নতির জন্য বিবেচনা না করা সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯ তে প্রদত্ত সুযোগের সমতার নিশ্চয়তার বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন(Mohammad Faizullah & ors. Vs. of Bangladesh. (1981) 33 DLR 16)


Robin Gurung v. State of Sikkim, (1983) ISLJ 538 মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে,পদোন্নতি অধিকার না হলেও পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হওয়া অধিকারের পর্যায়ভুক্ত। পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন সত্ত্বেও পদোন্নতির জন্য 'বিবেচনা না করা এখতিয়ার প্রয়োগকে দূষিত করে।


আবার, Mohammad Faizullah Vs. Govt. of Bangladesh, IBLD(HCD) মামলার রায়ে বলা হয়েছে যে, ‘জ্যেষ্ঠতা হচ্ছে অর্পিত অধিকার। জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা না করে  কনিষ্ঠ কর্মচারীকে পদোন্নতি প্রদান সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সুযোগের সমতার নীতির লঙ্ঘন।’
(১ম পর্ব)


উৎস ১.গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ২.বাংলাদেশের চাকুরী আইন:মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া ৩.সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮

৪. বাংলাদেশের চাকুরী আইন-মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া

৫. পদোন্নতির সাতকাহন-অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত

৬. বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৩



Post a Comment

0 Comments